আমার গল্প -পর্ব ০৫:

আমি কিভাবে জাপানিজ শিখলাম

জাপানে আসার পর আমি খুব দ্রুত একটা বিষয় বুঝে গিয়েছিলাম।
ভাষা না জানলে এখানে টিকে থাকা সম্ভব না।
আমি যখন ১৯৯৯ সালে জাপানে আসি , আমি জাপানিজ ভাষার কিছুই জানতাম না , even “ধন্যবাদ” বলাটাও জানতাম না।
ওই সময় বাংলাদেশ এ ও জাপানিজ ল্যাংগুয়েজ শিখায় এমন প্রতিষ্ঠান খুব বেশি ছিল না।
ঐ সময় Youtube -Facebook-Google কিছুই ছিলোনা। Internet এর ব্যবহার ও খুব বেশি ছিলোনা। মোবাইল ফোন ও ছিলোনা যে Application দিয়ে পড়বো।
সেইজন্য আমাদের জাপানিজ শিখাটা ছিল অনেক চ্যালেঞ্জিং।
শুধুমাত্র বই দেখে পড়তে হতো।
প্রথম কয়েক মাস আমার কাছে খুব কঠিন ছিল। দোকানে গিয়ে কথা বলতে পারি না, ট্রেনে ঘোষণা বুঝি না, মানুষ কি বলছে সেটাও পরিষ্কার বুঝতে পারি না। অনেক সময় মনে হতো আমি যেন বোবা হয়ে গেছি।
সেই সময় আমি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমি জাপানিজ শিখবো।
একটা বিষয় শুরু থেকেই আমার মধ্যে পরিষ্কার ছিল। আমি জাপানিজ শিখবো শুধু JLPT পাশ করার জন্য না , আমি শিখবো বাঁচার জন্য, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য।
আমার কাছে ভাষা একটা Subject ছিল না, ছিল একটা Survival tool।
আমি জাপানিজ শিখতে যে টেকনিক গুলো ব্যবহার করেছি সেগুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করি। কাজে লাগতে পারে।
১. প্রথমে হিরাগানা আর কাতাকানা শিখেছি।
২. এরপর ছোট ছোট শব্দ, ছোট বাক্য।
৩. হিরাগানা -কাটাকানা শিখার পর , ২৫০-৩০০ sentence একেবারে মুখস্ত করে ফেলি। যেইগুলো ডেইলি লাইফ এ প্রতিদন ব্যবহার হয়। তারপর সেগুলো প্রতিদিন মুখে জোরে জোরে ২০-২৫ বার উচ্চারণ করতাম। এতে আস্তে আস্তে মুখের জড়তা কমতে শুরু করলো। এবং কিছু Sentence মুখস্ত করায় ডেইলি লাইফ ও কিছুটা ইজি হতে শুরু করলো।
৪. তারপর জোর দেই গ্রামার শিখার দিকে। প্রত্যেকটা গ্রামার খুব নিখুঁত ভাবে পোড়াতম এবং বোঝার চেষ্টা করতাম। তারপর সেই গ্রামার ব্যবহার করে ৫-৬ টা Example Sentence বানানোর চেষ্টা করতাম
৫. কাঁনজি প্রতিদিন লিখতাম , একটা কানজি ১৫-২০ করে লিখতাম। প্রতিদিন কানজি প্র্যাক্টিস করার সময় , প্রথমে আগের শিখা কানজি গুলো কয়েকবার রিভাইস দিয়ে নতুন কানজি শুরু করতাম।
৬. লিসেনিং ভালো করার জন্য জাপানিজ টিভি দেখতাম। ঐ সময় Youtube, Facebook কিছুই ছিল না। Walkman এ লিস্টানিং অডিও তুলে শুনতাম।
৭. নিখুঁত ভাবে জাপানিজ বলার জন্য ইম্পরট্যান্ট Verb গুলো এই ভাবে প্রাকটিস করতাম। আপনি যদি প্রত্যেকটা ভার্ব এই ২১ টা স্টাইল এ প্রাকটিস করতে পারেন , তাহলে আপনার কোনভার্সেশন এবিলিটি নেটিভ লেভেল এর কাছে চলে যাবে।
যেমন : [食べる (তাবেরু) খাওয়া বা খাবো ] Verb এর বিভিন্ন ব্যবহার। নিচে Example দিলাম।
1. Dictionary form (Casual)
食べる (たべる)
খাওয়া /খাবো
2. Polite present
食べます
খাই / খাব (ভদ্রভাবে)
3. Casual past
食べた
খেয়েছি / খেলাম
4. Polite past
食べました
খেয়েছি (ভদ্রভাবে)
5. Casual negative
食べない
খাই না / খাব না
6. Polite negative
食べません
খাই না (ভদ্রভাবে)
7. Desire
食べたい
খেতে চাই
8. Intention / plan
食べるつもり
খাওয়ার পরিকল্পনা
9. In progress
食べている
খাচ্ছি / খাচ্ছে
10. Just finished
食べたところ
এইমাত্র খাওয়া শেষ করেছি
11. Experience
食べたことがある
খাওয়ার অভিজ্ঞতা আছে
12. Experience (negative)
食べたことがない
কখনো খাইনি
13. Te-form
食べて
খেয়ে (তারপর)
14. Permission
食べてもいい
খেতে পারো / পারি
15. Conditional
食べたら
খেলে / খেলে তারপর
16. Volitional
食べよう
চল খাই
17. Ability
食べられる
খেতে পারি
18. Polite request
食べてください
দয়া করে খান
19. Polite prohibition
食べないでください
দয়া করে খাবেন না
20. Obligation
食べなければなりません
খেতেই হবে
21. No-need
食べなくてもいいです
খাওয়ার দরকার নেই
আপনি প্রতিটি প্রয়োজনীয় verb যদি এই ভাবে শিখতে পারেন , তাহলে আর আপনাকে পিছে ফিরে তাকাতে হবে না।
এবার আসি প্ল্যানিং এর ব্যাপারে।
আমি প্রথম থেকেই খুব নিয়ম মাফিক ভাবে চলেছি এবং নিজের মদ্ধ্যে একটা প্ল্যান তৈরী করেছিলাম।
যেমন :
১. ০০০ সালারে ০০০মাসে JLPT N5 দিবো
২. ০০০ সালারে ০০০মাসে JLPT N3 দিবো
৩. ০০০ সালারে ০০০মাসে JLPT N1 দিবো
এবং এই প্ল্যান খাতায় লিখে প্রতিদিন একবার করে দেখতাম। যেটা আমাকে আমার ব্রেইন কে রিওয়ারিং করতে হেল্প করেছে।
এবং আমি প্রতিদিন ভিজুয়ালাইজ করতাম যে আমার JLPT N2 হয়ে গেছে , JLPT N1 হয়ে গেছে। এই Visualization জিনিষটা খুবই ইম্পরট্যান্ট।
এটা ছিল আমার স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রথম এবং সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
কারণ আপনি আপনার জীবন যেভাবে ভিজুয়ালাইজ করবেন , আপনার জীবন তেমনটাই হবে।
আমি এতটাই জাপানিজ শিখার জন্য ক্রেজি হয়েছিলাম যে , বাসে, ট্রেনে , মাঠে -ঘটে , even টয়লেট এ গিয়েও জাপানিজ শিখতে চেষ্টা করতাম।
জীবনে ক্রেজি না হলে বড় কিছু পাওয়া যায় না।
আমি শুধু বই খুলে পড়িনি। আমি আমার চারপাশকেও আমার শিক্ষক বানিয়ে ফেলেছিলাম।
যেমন :
ট্রেনে গেলে ঘোষণাগুলো মন দিয়ে শুনতাম। ট্রেন এর মধ্যে যে এডভারটাইজ গুলো লাগানো থাকতো , ওই গুলো পড়ার চেষ্টা করতাম , কানজি গুলো রিভাইস দেবার চেষ্টা করতাম। দোকানে গেলে সাইনবোর্ড পড়ার চেষ্টা করতাম। মানুষ কিভাবে কথা বলছে সেটা লক্ষ্য করতাম।
কাজের জায়গায় সহকর্মীরা কিভাবে কথা বলে, কি শব্দ ব্যবহার করে—এসব আমি মন দিয়ে শুনতাম। কোনো নতুন শব্দ শুনলে মেমো করতাম।
অনেক সময় বুঝতাম না, কিন্তু শুনতে থাকতাম।
এভাবেই আমি ২৪ ঘন্টার এক দিন কে ভার্চুয়ালি ৩৫-৩৬ ঘন্টা বানাতাম।
শুধু মনে হতো একদিন যদি ২৪ ঘন্টা না হয়ে ৪০ ঘন্টা হতো তাহলে খুব ভালো হতো। তাহলে আর একটু সময় পেতাম , আর একটু পড়তাম আর একটু ঘুমাতাম।
আমি ভুল করেছি অনেক। ভুল বলেছি, ভুল বুঝেছি, কখনো কখনো লজ্জাও পেয়েছি।
কিন্তু একটা জিনিস কখনো করিনি।
“আমি থামিনি।”
কারণ আমি বুঝে গিয়েছিলাম, ভুল না করলে ভাষা শেখা যায় না।
আরেকটা জিনিস আমাকে খুব সাহায্য করেছে।
সেটা হলো ; আমি জাপানিজকে আলাদা কোনো পড়াশোনা হিসেবে দেখিনি। আমি এটাকে আমার প্রতিদিনের জীবনের অংশ বানিয়ে ফেলেছিলাম।
যেখানেই জাপানিজ আছে, সেখান থেকেই শিখেছি।
ধীরে ধীরে শব্দ ভান্ডার বাড়লো। বাক্য বুঝতে শুরু করলাম। মানুষের কথা বোঝা সহজ হতে লাগলো।
একসময় বুঝলাম আমি শুধু টিকে থাকার জন্য না, কাজের জায়গায়ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে কথা বলতে পারছি।
আস্তে আস্তে আমি আমার লক্ষে পৌঁছে গেলাম। জীবন সহজ হওয়া শুরু করলো।
High Paid পার্ট টাইম জব পেতে শুরু করলাম। টাকা আসতে শুরু করলো।
এটা ছিল অনেক বছরের ছোট ছোট কর্মের যোগফল।
প্রতিদিনের চেষ্টা।
প্রতিদিনের ভুল।
প্রতিদিনের শেখা।
আজ কেউ যদি আমাকে জিজ্ঞেস করে জাপানিজ শেখার secret কি?
আমি বলি secret খুব বড় কিছু না।
Strong reason.
Daily habit.
Real life practice.
And patience.
আমি fast শিখিনি।
কিন্তু deep শিখেছি।
আর সেই কারণেই জাপানিজ ভাষাটা আমার জীবনের অংশ হয়ে গেছে।
কিন্তু ভাষা শেখার এই পথটা সহজ ছিল না।
সবচেয়ে বড় challenge ছিল “সময়।”
কাজের / পড়াশোনার চাপের মধ্যে কিভাবে আমি এই শেখাটা চালিয়ে গিয়েছি, সেই গল্পটাই বলবো পরের পর্বে।
চলবে…

error: Content is protected !!