আমার গল্প - পর্ব ০৩:

প্রথম সংস্কৃতি শক

জাপানে আসার পর প্রথম যে জিনিসটা আমাকে সবচেয়ে বেশি অবাক করেছিল, সেটা ছিল এখানকার মানুষের আচরণ।
বাংলাদেশে আমরা যেভাবে বড় হই, সেখানে অনেক কিছুই একটু ঢিলেঢালা ভাবে চলে। সময় একটু এদিক-ওদিক হলে সমস্যা হয় না, লাইনে একটু সামনে যাওয়ার চেষ্টা করলেও কেউ খুব অবাক হয় না।
কিন্তু জাপানে এসে যেন একেবারে অন্য একটা পৃথিবী দেখলাম।
প্রথম কয়েকদিনেই দেখলাম মানুষ কিভাবে সময়কে গুরুত্ব দেয়। ট্রেন ঠিক সময়মতো আসে, মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে শান্তভাবে অপেক্ষা করে, কেউ অযথা কথা বলে না। সবাই যেন নিজের দায়িত্বটা খুব গুরুত্ব দিয়ে পালন করছে।
একদিন ট্রেনে উঠার সময় একটা ঘটনা আমার খুব মনে আছে। অনেক মানুষ প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু কেউ ধাক্কাধাক্কি করছে না। সবাই লাইনে দাঁড়িয়ে একে একে উঠছে।
সেই দৃশ্যটা দেখে আমি খুব অবাক হয়েছিলাম।
আমি তখন ভাবছিলাম—এই সমাজটা এত নিয়ম মেনে চলে কিভাবে?
ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করলাম, এটা একদিনে তৈরি হয়নি। বছরের পর বছর ধরে মানুষের অভ্যাস, শিক্ষা আর দায়িত্ববোধের মাধ্যমে এই সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে।
এই বিষয়টা আমাকে ভেতর থেকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।
আমি বুঝলাম, যদি এই দেশে টিকে থাকতে চাই, তাহলে শুধু কাজ করলেই হবে না—এই সমাজের নিয়ম, শৃঙ্খলা আর মানসিকতাকেও বুঝতে হবে।
জাপান আমাকে তখন একটা বড় শিক্ষা দিচ্ছিল।
একটা জাতি বড় হয় শুধু প্রযুক্তি বা অর্থ দিয়ে না। তাদের প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসই তাদের শক্তি তৈরি করে।
এই উপলব্ধিটা আমার চিন্তাভাবনাকে ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করল।
কিন্তু তখনও একটা বড় সমস্যা আমার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল।
সেটা হলো ভাষা।
ভাষা না জানলে এই সমাজকে বোঝা, মানুষের সাথে কাজ করা—সবকিছুই খুব কঠিন।
সেই সময় আমি বুঝতে শুরু করলাম, জাপানে সত্যিকারে টিকে থাকতে হলে আমাকে জাপানিজ ভাষা শিখতেই হবে।
সেই গল্পটাই বলবো পরের পর্বে।
চলবে…

error: Content is protected !!