আমার গল্প - পর্ব ০২:
জাপানে প্রথম দিন
জাপানে প্রথম দিনটা আজও আমার খুব পরিষ্কার মনে আছে।
১৯৯৯ সালের এর অক্টোবর মাস। । অনেক স্বপ্ন আর অজানা ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি জাপানের মাটিতে পা রাখলাম। আমি ঢাকা থেকে কোরিয়া হয়ে হোক্কাইডোর শিন চিতোসে এয়ারপোর্ট এ আসি। প্লেন থেকে নামার পর চারদিকে তাকিয়ে বুঝলাম—আমি সত্যিই একদম অন্য এক জগতে এসে পড়েছি।
সবকিছুই নতুন। ভাষা বুঝি না, মানুষ চিনি না, কোথায় কি করতে হবে সেটাও পরিষ্কার জানি না।
আমার বড় বোন জাপানে এসেছিলো ১৯৯৮ সালে।
সে আমাকে নিতে এসেছে এয়ারপোর্ট এ। সে একজন মেডিকেল ডক্টর। Hokkaido University তে Phd করছিলো হার্ট এর উপর। সে ছিল জাপান গভর্নমেন্ট এর MEXT স্কলারশিপ পাওয়া student . সে SCC এবং HSC তে স্ট্যান্ড করা Student ছিল।
সেই আমাকে জাপানে নিয়ে আসে।
তারপর আস্তে আস্তে দেখতে থাকলাম নতুন এক পৃথিবী, এয়ারপোর্টের সাইনবোর্ডগুলো সব জাপানিজ। ঘোষণা হচ্ছে জাপানিজ ভাষায়। আশেপাশে সবাই খুব দ্রুত নিজের নিজের কাজ করছে, কিন্তু আমি দাঁড়িয়ে আছি একটু বিভ্রান্ত হয়ে।
সেই মুহূর্তে মনে হচ্ছিল—আমি কি সত্যিই এখানে টিকে থাকতে পারবো?
বিদেশে আসার আগে আমরা অনেক স্বপ্ন দেখি। কিন্তু বাস্তবতা প্রথম দিনেই বুঝিয়ে দেয় যে সামনে পথটা সহজ হবে না।
সেদিন একটা জিনিস খুব স্পষ্টভাবে অনুভব করেছিলাম যে —এখানে কেউ আমার পথ তৈরি করে দেবে না। আমাকে নিজের পথ নিজেকেই তৈরি করতে হবে।
তবে আমার বোন থাকায় আমার প্রথম ধাক্কাটা অতটা কঠিন ছিল না। আমি তার কাছে চির কৃতজ্ঞ। সে এখন জাপানের Tsukuba শহরে বাস করে।
প্রথম দিনের সেই মুহূর্তটা আমার জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ শুরু ছিল।
ভয় ছিল, অনিশ্চয়তা ছিল, কিন্তু ভিতরে একটা ছোট বিশ্বাসও ছিল—যদি ধৈর্য ধরে এগোতে পারি, তাহলে হয়তো একদিন এই দেশেই নিজের জায়গা তৈরি করতে পারবো।
আজ এত বছর পরে পিছনে তাকালে মনে হয়, সেই প্রথম দিনের অস্বস্তি আর ভয়টাই আমাকে ভিতর থেকে শক্ত করে দিয়েছিল।
জীবনে অনেক সময় আমরা এমন জায়গায় দাঁড়াই যেখানে সামনে কি আছে তা পরিষ্কার থাকে না। কিন্তু সেখান থেকেই আসলে নতুন যাত্রা শুরু হয়।
কিন্তু জাপানে এসে আমাকে যে জিনিসটা সবচেয়ে বেশি ধাক্কা দিয়েছিল, সেটা ছিল আরেকটা বিষয়।
সেটা নিয়ে বলবো পরের পর্বে।
চলবে…

